চাকরির খবর

শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যাপক রদবদল আসছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া আওয়ামী লীগ এবার অন্যান্য খাতের মতো শিক্ষাখাতে আরও সংস্কার ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নতুন কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। আর এ সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করতে শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ব্যাপক রদবদল করা হবে। সরকারের উচচ পর্যায়ের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শিক্ষা প্রশাসনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থান শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপরেই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, এনটিআরসিএ, মাদ্রাসা ও কারিগরি অধিদপ্তর, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং পাঠ্যপুস্তকবোর্ড।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ও মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ আসতে পারে বলে জানা গেছে। দশম সংসদে এই তিন অংশে তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন কিন্তু একাদশ সংসদে এখানে একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা যায়, নবম সংসদে আওয়ামী লীগের এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন কিন্তু দশম সংসদে শুধু এমপি ছিলেন এমন দুইজনকে শিক্ষার তিন অংশের বড় যেকোনও দুটিতে দেখা যেতে পারে। আবার একাদশ সংসদে এমপি পদে প্রার্থী লড়াই করেননি এমন একজনকেও টেকনোক্রাট কোটায় মন্ত্রণালয়ে দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে যারা বর্তমানে রয়েছেন তাদের মধ্যে একজন একই পদে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন এবং আরেকজন পদোন্নতি চাচ্ছেন বলে জানা গেছে। অপরজন, গত ২৪ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর ফল প্রকাশের দিনেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন।

একাধিক সূত্রমতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ঘাপটি মেরে থাকা জামাত-বিএনপিপন্থী এবং দলমতনির্বিশেষে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তিনটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে।জুনিয়রের অধীনে সিনিয়রের চাকরির ঘটনার অবসান ঘটতে পারে। এছাড়াও উপ-পরিচালক, সহকারি পরিচালক পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বদলি আসন্ন। একাধিক শিক্ষাবোর্ড, রাজধানীর কয়েকটি সরকারি কলেজ ও স্কুল থেকেও জামাতপন্থীদের বদলি করা হতে পারে। বদলির তালিকাভুক্তরা সবাই মন্ত্রণালয়ের একজন জামাতপন্থী অতিরিক্ত সচিবের ছত্রছায়ায় শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দুর্নীতি ও অনিয়ম করে যাচ্ছেন বছরের পর বছর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের একজন অধ্যাপক বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষা অধিদপ্তর ও ডিআইএতে থাকা কয়েকজন জামাতপন্থী কর্মকর্তা স্বপদে বহাল থাকতে নানা কৌশল অবলম্বব করছেন। তারা ফেসবুকে বেশি বেশি করে নবনির্বাচিত এমপিদের অভিনন্দন, স্বাগতম জানানো ছাড়াও পুরনো তোলা ছবি শেয়ার করছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদপ্তর ও ডিআইএতে ঘাপটি মেরে থাকা জামাতপন্থী কয়েকজন কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে মিষ্টি ক্রয় ও বিতরণ করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া গুলশান থেকে দামী ফুলের তোড়া নিয়ে সবার আগে অভিনন্দন জানানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। এছাড়া সম্ভাব্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বাসায়ও হাজির হওয়া শুরু করেছেন ফুলের তোড়া নিয়ে।

I hope you are enjoying this article. Thanks for visiting this website.