আতাফলের উপকারীতা সমূহ এবং অপকারিতা জেনে নিন ২০২৬

বিভিন্ন ধরনের ফলমূলের গাছে ভরা আমাদের বৈচিত্র্যপূর্ণ এই দেশ। এ দেশের বিভিন্ন ধরনের ফল ফুলের মধ্যে আতাফল অন্যতম একটি ফল। আমাদের বাসার আশে পাশে অথবা ঝোপঝাড়ে এই আতা ফল গাছ জন্মাতে দেখা যায়। বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি গুণাগুণ সম্পন্ন একটি ফল হল আতা। আতা ফলের ভিতরে এমন কিছু ভিটামিন পুষ্টি গুনাগুন রয়েছে যেগুলো আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আতা ফলের উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব। আপনি যদি আতা ফলের উপকারিতা সমূহ সম্পর্কে জানতে চান তাহলে অবশ্যই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন। তাহলেই আপনি খুব সহজে আতা ফলের বিভিন্ন উপকারিতা সমূহ সম্পর্কে ভালো ভাবে জানতে এবং বুঝতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক আতা ফলে বিভিন্ন উপকারিতা সমূহ সম্পর্কে।

আতা ফলের উপকারিতা সমূহ

আতা ফলের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি গুনাগুন রয়েছে। আতা ফলের মধ্যে যেসব পুষ্টি গুনাগুন গুলো পাওয়া যায়
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো; ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস, আয়রন নিয়য়াসিয়ান, রিবোফ্লাভিন ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, প্রোটিন, সকরা ও প্যানটোথেনিক এসিড। এসব গুলো কিন্তু আমাদের জন্য খুবই উপকারী পুষ্টি গুনাগুন উপাদান।

আতা ফল কিন্তু আমাদের শরীরে থাকা বিভিন্ন ধরনের হাড় মজবুত করতে খুবই উপকারী। এছাড়া ছোট বাচ্চাদের যদি আতা ফল খাওয়ানো যায় তাহলে তাদের হার ছোটবেলা থেকেই শক্তিশালী বা শক্ত থাকে।

এছাড়াও আতা ফলের বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। যদি আপনি কখনো অসুস্থ হন বা কোন দুরারোগ্য আক্রান্ত হন তাহলে এক্ষেত্রে আপনাকে সুস্থ রাখতে ও আতাফল যথেষ্ট ভাবে সাহায্য করতে পারে। আগের দিনের মানুষ আতা ফল খাওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যানিমিয়া রোগের মতো রোগ প্রতিরোধ করতে পারত।

বর্তমান সময়ে আমাদের অনেকের মধ্যেই খাবার হজমে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। বিভিন্ন ধরনের চারদিকে নানান ধরনের ফরমালিন যুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে হজম হতে বিভিন্ন সমস্যা যদি আপনার থেকে থাকে। তাহলে এই সমস্যা থেকে আতা ফল খেলে বাঁচতে পারবেন। কেননা আতাফল আমাদের শরীরের হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে সেই সাথে আমাদের পেটে যদি কোন সমস্যা থাকে সেগুলো দূর করতে সাহায্য করে।

আতাফল (সীতাফল) এর উপকারীতা সমূহ

আতাফল একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও শক্তিবর্ধক ফল। এতে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খাদ্যআঁশ রয়েছে। নিয়মিত পরিমাণমতো খেলে শরীরের জন্য চমৎকার উপকার পাওয়া যায়।

১. শক্তি বৃদ্ধি করে

আতাফলে প্রাকৃতিক চিনি (গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ) থাকে, যা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়।

  • দুর্বলতা
  • ক্লান্তি
  • শরীর ভাঙ্গা ভাব দূর করতে সহায়ক।

২. হজমশক্তি উন্নত করে

আতাফল খাদ্যআঁশে সমৃদ্ধ, যা—

  • কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়
  • হজম বাড়ায়
  • পেট পরিষ্কার করে
  • গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন C, যা—

  • শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে
  • সর্দি-কাশি প্রতিরোধ করে
  • ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে

৪. চোখের জন্য উপকারী

ভিটামিন A উপস্থিত থাকায়—

  • দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়
  • চোখ শুকিয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে
  • নৈশদৃষ্টি (night blindness) ঝুঁকি কমায়

৫. ত্বক ও চুলের জন্য ভালো

আতাফল ত্বককে—

  • ঝলমলে করে
  • বলিরেখা কমায়
  • শুষ্কতা দূর করে
  • চুলের গোঁড়া মজবুত করে

এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে বয়সের ছাপ থেকে রক্ষা করে।

৬. হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়

আতাফলে রয়েছে—

  • পটাশিয়াম
  • ম্যাগনেসিয়াম
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

৭. রক্তশূন্যতা কমায়

আতাফল আয়রনে সমৃদ্ধ। এটি—

  • হিমোগ্লোবিন বাড়ায়
  • রক্তশূন্যতা (anemia) প্রতিরোধ করে
  • গর্ভবতী নারীদের রক্তস্বল্পতা পূরণে সহায়ক

৮. হাড় ও দাঁত মজবুত করে

আতাফল ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাসে সমৃদ্ধ হওয়ায়—

  • হাড় শক্তিশালী করে
  • দাঁতের এনামেল রক্ষা করে
  • অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি কমায়

৯. মানসিক প্রশান্তি ও ঘুম ভালো করে

এই ফলে থাকা ম্যাগনেসিয়াম—

  • স্ট্রেস কমায়
  • নার্ভ শান্ত করে
  • ঘুম ভালো হয়
  • মাথাব্যথা কমায়

১০. গর্ভবতী নারীদের জন্য উপকারী

আতাফল ফোলিক অ্যাসিডে সমৃদ্ধ, যা—

  • গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সহায়তা করে
  • জন্মগত ত্রুটি কমায়
  • গর্ভবতী নারীদের দুর্বলতা দূর করে

কখন আতাফল খাওয়া উচিত নয়

যদিও পুষ্টিকর, কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে—

  • ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বেশি খাওয়া উচিত নয়
  • খুব ক্যালোরি বেশি, তাই ওজন কমানোর সময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
  • বীজ কখনোই খাওয়া যাবে না (বিষাক্ত)

আশাকরি আতা ফল নিয়ে অনেক কিছু ই আপনারা জানতে পারলেন। এছাড়া ও আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করেছি আতা ফল খাওয়ার বিভিন্ন উপকারিতা সমূহ সম্পর্কে। এরপর ও যদি আপনি আতা ফল খাওয়ার উপকারিতা সমূহ সম্পর্কে ভালো ভাবে জানতে বা বুঝতে না পারেন।

তাহলে অবশ্যই আমাদের কে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে আপনার সমস্যাটি সমাধান করে দেওয়ার চেষ্টা করব। যাতে করে আপনি খুব সহজে আতা ফলের উপকারিতা সমূহ সম্পর্কে জানতে পারেন। তো আজ এই পর্যন্ত ছিল দেখা হবে আবার নতুন কোন আর্টিকেলে নতুন কোন বিষয় নিয়ে, ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

About Author

Srabon Mahamud
জানতে ও জানাতে চাই।